বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হবে এবারের বন্যা

বন্যা

১৯৮৮ সালের পর এবারই (২০২০-এ) বাংলাদেশে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা হতে পারে – জাতিসংঘ।
দেশে এখনও বন্যার পানি বাড়ছে, আগামী মাসের আগে পানি কমবে এমন সম্ভাবনাও কম।

গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের অফিস ফর দ্য কো-অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্সের (ওসিএইচএ) এর নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানানো হয়।

ওসিএইচএ -জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত বন্যায় দেশের ১৮টি জেলার প্রায় ২৪ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘরবাড়ি ছেড়ে সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছে অন্তত ৫৬ হাজার এর বেশি মানুষ। দেশে বন্যার প্রভাবে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৪ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

এই বছর বন্যায় প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশীরভাগ বাঁধ ও বাঁধের মতো বন্যা নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো গুলো। বন্যায় ভুক্ত-ভোগীদের জরুরি খাবার, পানি বিশুদ্ধ-করণ সুবিধা, নারীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য কিট, জরুরি আশ্রয়ের-মতো বিষয় গুলোতে সরকারকে সহায়তা করছে জাতিসংঘ ও মানবিক সহায়তা-কারীরা।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা পরিবার-গুলোকে সহায়তার জন্য সম্প্রতি জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাকে প্রাথমি কভাবে ৫২ লাখ মার্কিন ডলারের তহবিল দিয়েছে সেন্ট্রাল ইমারজেন্সি রেসপন্স ফান্ড (সিইআরএফ)। এই তহবিলের মাধ্যমে অংশীদারদের সহায়তায় ১১ জুলাই থেকে দুর্গতদের কৃষিজাত সরঞ্জাম সুরক্ষায় সিলযোগ্য ড্রাম সরবরাহ, স্বাস্থ্য ও পরিচছন্নতার উপকরণ, নগদ অর্থ বিতরণের মতো সাহায্য দেয়া হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড় আম্ফান পরবর্তী পুনরুদ্ধার প্রতিক্রিয়া এবং তার সঙ্গে করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে বন্যায় সহায়তা ও পুনরুদ্ধার চেষ্টা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও জানিয়েছে জাতিসংঘ।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৮ সালের বন্যা ছিলো বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক ও ক্ষয়-ক্ষতিময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ-গুলোর মধ্যে অন্যতম। ওই বছর আগস্ট – সেপ্টেম্বর মাসে হওয়া বন্যায় বাংলাদেশের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। স্থানভেদে এই দুরবস্থা স্থায়ী ছিল ১৫ থেকে ২০ দিন। তখন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়েছিল এই বন্যার খবর।

-নিউজ ডেস্ক / খলিফা নিউজ