মরদেহ পোড়ানোর চেয়ে কবর দেয়াই উত্তম

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

করোনা ভাইরাসে বিশ্বব্যাপী প্রতিনিয়তই বাড়ছে আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা। এই পর্যন্ত সারা বিশ্বে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৮,৫৯,৪৪৪ জন এবং এর মধ্যে মারা গেছেন প্রায় ৪২,৩৩৯ জন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) জানিয়েছে, এ ভাইরাসে মানুষ মারা গেলে তার মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার চেয়ে কবর দেয়াই উত্তম। প্রাকৃতিক কোন বিপর্যয়ের পর কোন লাশের শরীর কোন ধরনের মহামারী রোগ সৃষ্টি করে এমন প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) সম্প্রতি ‘রিস্কস পোজড বাই ডেড বডিস, আফটার ডিজঅ্যাস্টারস’ শিরোনামে একটি নির্দেশনা প্রকাশ করে।
উক্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে করোনা ভাইরাসে মৃত ব্যক্তি থেকে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে! তবে এই তথ্যের কোনো প্রমাণ মেলেনি। কারণ মহামারীতে মারা যাওয়ার পর শরীরে ওই এজেন্টের বেশির ভাগই দীর্ঘ সময় জীবিত থাকে না। তবে লাশের সঙ্গে সংস্পর্শ অব্যাহত রাখলে যক্ষ্মা বা রক্তবাহিত ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটতে পারে। মরদেহ থেকে এক্ষেত্রে কিছুটা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি থাকে। যেমন কেউ যদি কলেরা বা রক্তপ্রদাহ জনিত জ্বরে মারা যান, তাহলে এটা ঘটতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) আরও জানিয়েছে, যারা নিয়মিত মৃতদেহ দাফন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকেন তাদের যক্ষ্মা, রক্তবাহিত ভাইরাস (যেমন: এইচআইভি, হেপাটাইটিস-বি, সি) এবং কলেরা, হেপাটাইটিস-এ, ই-কোলি, সালমানেলোসিস, রোটাভাইরাস ডায়রিয়া, শিগেলোসিস এবং টাইফয়েড/প্যারাটাইফয়েড জ্বরে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।

সংস্থাটি আরো জানায়, এসব তথ্য এবং ঝুঁকির কথা সকল জরুরি বিভাগের কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া উচিত, যাতে যথাযথ পূর্ব সতর্কতা অবলম্বন করা যায়, তাহলে এই নিয়ে আতঙ্ক ও ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো সম্ভব।

– নিউজ ডেস্ক / খলিফা নিউজ