করোনা ভাইরাস

বাংলাদেশে তিন জন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীকে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের নেয়া হয়েছে নিবিড় পর্যবেক্ষণে। চীনের উহান থেকে ঢাকা, করোনার সেই যাত্রাটা কেমন ছিল, সেটাই দেখে আসা যাক করোনা টাইমলাইনে…

ডিসেম্বর, ২০১৯ঃ প্রথম করোনা ভাইরাস নামটা শুনেছে বিশ্ব। এর প্রায় এক মাস আগে এই করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব আবিস্কার হলেও, চীন সরকার বেশ কিছুদিন এই ঘটনাটি -কে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছিল বলে জানা যায়। যে ডাক্তার সর্বপ্রথম এই করোনা ভাইরাস এর অস্তিত্ব আবিস্কার করেছিলেন, শেষমেশ তিনিও এই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যুবরণ করেছেন।

চীনের উহান শহরের একটি সামুদ্রিক মাছের বাজার থেকে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসটি এখন তাণ্ডব চালাচ্ছে পুরো পৃথিবী জুড়ে। করোনা ভাইরাস নামের এই মরণব্যাধিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় লক্ষাধিক ছাড়িয়েছে, করোনার আক্রমণে মারা গেছে প্রায় তিন হাজারের বেশি মানুষ। শতাধিক দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে এই করোনা, গতকাল মার্চের আট তারিখ, বাংলাদেশে তিন জন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীকে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের সবাইকে নেয়া হয়েছে নিবিড় পর্যবেক্ষণে। চীনের উহান থেকে ঢাকা, করোনার সেই যাত্রাটা কেমন ছিল, চলুন দেখা যাক।।

জানুয়ারী ২০২ঃ ধীরে ধীরে পরিস্থিতি খারাপের চেয়েও খারাপের দিকে এগিয়ে যেতে শুরু করলো। বন্ধ করে দেয়া হলো চীনের উহান শহর, সব হাসপাতাল গুলোতে খোলা হলো কোয়ারেন্টাইন সেন্টার, নিজের প্রাণ হাতে নিয়ে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলেন সেখানকার সকল ডাক্তার ও নার্সরা।

ফেব্রুয়ারী ২০২ঃ মৃত্যুপুরীতে পরিণত হওয়া চীনের উহান থেকে ৩১৪ জন বাংলাদেশীকে বিশেষ বিমানে করে ফিরিয়ে আনা হলো, তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হলো ঢাকার আশকোনায় অবস্থিত হজ ক্যাম্পে। তাদের কারো দেহেই করোনার ভাইরাস পাওয়া যায়নি। এরই মধ্যে চীনের বাইরে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর খবর এলো ফিলিপাইন থেকে। ততদিনে বিশ্বের অনেক দেশেই ছড়াতে শুরু করেছে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব, দক্ষিণ কোরিয়া তাদের আস্ত একটা শহর বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে, একটা ধর্মীয় গোষ্ঠীতে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে তাদের সবাইকে গৃহবন্দী করে কোয়ারেন্টাইন সুবিধা দেয়া হয়েছে।

মার্চ ২০২০ঃ আশঙ্কার চেয়ে অনেক দ্রুত গতিতে ছড়াতে থাকলো করোনা ভাইরাস, পৌঁছে গেল উন্নত দেশ ইউরোপ – আমেরিকাতেও। আমেরিকার বেশ কয়েকটা শহরে জারী করা হলো জরুরী অবস্থা, বৃটেনে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু ঘটলো। জাপান – থাইল্যান্ডেও ছড়িয়েছে এই মহামারী রোগটা, ইরানে তো খুবই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পাশের দেশ ভারতেও পাওয়া গেছে করোনায় আক্রান্ত রোগী।

০৮ মার্চ, ২০২০, বিকেল ৪টাঃ বেশ কয়েকটি দেশের সাথে বাংলাদেশও বাকী ছিল এই তালিকা থেকে, কিন্তু নারী দিবসের এই দিনে (০৮ মার্চ) বাংলাদেশেও ধরা পড়লো করোনা ভাইরাস, আক্রান্ত তিনজনের খবর জানালো আইইডিসিআর। এদের মধ্যে দুজন সম্প্রতি ইতালী থেকে দেশে ফিরেছেন। করোনা ভাইরাসের জীবাণুটা তারা ইতালী থেকে এনেছেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তিন মাস হয়ে গেলও, এখন পর্যন্ত কোন প্রতিষেধক আবিস্কার হয়নি এই করোনার, এটাই হচ্ছে সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার। তবে পরিস্কার – পরিচ্ছন্ন এবং সাবধান থাকলে করোনা মোটেও কারো জন্যে ভয়ংকর কিছু নয়, একারণেই সবাইকে বারবার আতঙ্কগ্রস্ত না হতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

৮ই মার্চ ২০২০, বিকেল ৫টাঃ আইইডিসিআর -এর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন, সেখানে তিনি সাধারণ মানুষকে জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। করণীয় হিসেবে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া ও কাশি শিষ্টাচার মেনে চলার আহ্বানও জানিয়েছেন।

মীরজাদী সেব্রিনার আরও তিনটি বক্তব্য উল্লেখযোগ্যঃ

১. বাংলাদেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ার মতো কোনো পরিস্থিতি এখনো সৃষ্টি হয়নি। স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেওয়ার মতোও কোন পরিস্থিতি হয়নি।

২. করোনা প্রতিরোধে সব ধরনের ব্যবস্থাই নেওয়া আছে। আইসোলেশেন ইউনিটও করা হয়েছে।

৩. আক্রান্ত রোগী এবং রোগীকে যিনি সেবা দিবেন, তারা মাস্ক পরবেন। বাকি সবার পড়ার প্রয়োজন নেই।

৮ই মার্চ ২০২০, সন্ধ্যা ৬টাঃ ঘোষণা এসেছে, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে মোট ছয়টি দেশ থেকে বাংলাদেশে আসা সকল যাত্রীদের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। দেশগুলো হচ্ছে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, ইরান, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ড। এই ছয়টি দেশ থেকে আসা সকল যাত্রীদের বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্যানারে পরীক্ষা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্ক্যানার দিয়ে শরীরের তাপমাত্রাও মাপা হচ্ছে। এ ছয়টি দেশ থেকে আসা যাত্রীদের শরীরে জ্বর না থাকলেও তাদের বাধ্যতামূলক ভাবে নিজ বাড়িতে না গিয়ে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। আর বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় যদি আগত যাত্রীর শরীরে তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা এর বেশি তাপমাত্রা থাকে, তাহলে তাকে সরাসরি কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে।

-নিউজ ডেস্ক / খলিফা নিউজ