করোনা ভাইরাস

করোনা ভাইরাস, সচেতন হোন এখন থেকেই…

ইলেক্ট্রনিক / প্রিন্ট মিডিয়ায় এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সময়ে সব থেকে বেশি আলোচ্য বিষয় হচ্ছে ‘করোনা ভাইরাস’। আপনারা অনেকেই জানেন যে চীনের উহান প্রদেশ থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। সম্প্রতি যারা চীন ভ্রমণ করে এসেছেন তাদের মাধ্যমেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস। এটা অত্যন্ত ছোঁয়াচে হওয়ায় বিশ্বব্যাপী সকল মানুষের মধ্যে এই মারণ ভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে মাত্র ৩ জন। তাই আমাদের সবাইকে সচেতন থাকা উচিত যাতে এই ভাইরাস থেকে আমরা নিরাপদে থাকতে পারি। চলুন তাহলে জেনে নেই, করোনা ভাইরাস কী, কিভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, আক্রান্ত হলে মানুষের শরীরের লক্ষণসমূহ এবং সচেতন থাকার উপায় সম্পর্কে।

করোনা ভাইরাস কী?? হিউম্যান করোনা ভাইরাস এক ধরনের জুনোটিক (Zoonotic) রোগ, এই সংক্রমণটি বিভিন্ন প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। অর্থাৎ পশু – পাখি থেকে মানুষের শরীরে ট্র্যান্সফার হয়। ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে এই ভাইরাসটি ক্রাউন বা মুকুটের মতো দেখতে হওয়াতেই এর নাম রাখা হয়েছে ‘করোনা’। বিজ্ঞানীদের মতে, এই ভাইরাসটি হয়তো মানুষের দেহকোষের ভেতরে ইতোমধ্যে মিউটেট (muted) রয়েছে কিন্তু সে তার গঠন পরিবর্তন করে নতুন রূপ নিচ্ছে এবং তার সংখ্যাবৃদ্ধি করছে।

এই ভাইরাসটির অনেক রকম প্রজাতি আছে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত প্রায় ছয়টি করোনা ভাইরাস শনাক্ত করেছেন, যা মানুষের শরীরে হালকা থেকে মারাত্মক লক্ষণ সৃষ্টি করে। কিছু উদাহরণঃ আলফা করোনা ভাইরাস (NL63 এবং 229E), বিটা করোনা ভাইরাস (HKU1 ও OC43) এবং বাকি দুটি সার্স ও মার্স তারা তাদের প্রাণঘাতী লক্ষণগুলোর জন্যই পরিচিত।

কীভাবে ছড়িয়েছে এই ভাইরাস?? করোনা ভাইরাস প্রথম পাওয়া গিয়েছিল ১৯৬০ সালে একজন রোগীর মধ্যে। ২০১৯ -এর শেষে আবার মধ্য চীনের উহান শহর থেকে এই রোগের সূচনা হয়। ৩১ ডিসেম্বর এই শহরে নিউমোনিয়ার মতো একটি রোগ ছড়াতে দেখে চীন কর্তৃপক্ষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে প্রথম সতর্ক করে। এরপর ১১ জানুয়ারি এই ভাইরাসে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। আর তারপর থেকেই বিশ্ববাসীর টনক নড়ে। নতুন করে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়েছে সাথে বাড়ছে দেশের সংখ্যা। তবে ঠিক কীভাবে এই ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্ভবত কোনো প্রাণী এই ভাইরাসের উৎস ছিল। উহান শহরের বাজারে অবৈধভাবে সকল বন্যপ্রাণী বেচাকেনা হয়। বাদুড়, সাপ কোনো কিছুই যেন বাদ রাখেনি তারা। প্রাণীদেহ থেকেই এই ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করেছে। ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার অন্যান্য কারণগুলো হচ্ছে সংক্রামিত ব্যক্তির সঙ্গে হ্যান্ডশেক, সংক্রামিত কোনো বস্তুর সাথে নাক বা মুখ স্পর্শ করা ইত্যাদি।

মানবদেহে লক্ষণসমূহঃ অন্যান্য শ্বাস – প্রশ্বাস সংক্রান্ত রোগের লক্ষণের সাথে করোনা ভাইরাসের লক্ষণগুলোরও মিল আছে। যেমন আক্রান্ত ব্যক্তির নাক দিয়ে সর্দি ঝরে, কাশি, হাঁচি, গলাব্যথা ও জ্বর হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি সাধারণ সর্দি – কাশির সাথে করোনা ভাইরাসের পার্থক্য বুঝতে পারে না। তাই এসব লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

করোনা ভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকতে আমাদের কিছু বিষয় মেনে চলতে হবে। চলুন জেনে নেই সচেতন থাকার উপায়গুলো সম্পর্কে।

১. সর্দি / জ্বর আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ সথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন।

২. সুরক্ষিত থাকতে অবশ্যই ফেইস মাস্ক ব্যবহার করুন।

৩. হ্যান্ড ওয়াশ / সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুতে হবে।

৪. গণপরিবহন / পাবলিক প্লেসে সাবধানে চলাফেরা করুন।

৫. প্রচুর পরিমাণে ফলের রস এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।

৬. ডিম, মাছ / মাংস রান্নার সময় ভালো করে সেদ্ধ করুন।

৭. নিয়মিত থাকার ঘর এবং কাজের জায়গা পরিষ্কার করুন।

৮. বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করুন।

৯. ভিটামিন -সি যুক্ত খাবার খেতে পারেন যেন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের কার্যকরী চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ চলছে যাতে করে এই ভাইরাসকে নির্মূল করা যায়। হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর গ্যাব্রিয়েল লিউং স্বাস্থ্য সম্পর্কিত নির্দেশনায় বলছেন, ‘আপনি যদি অসুস্থ হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই মাস্ক পরুন, আর নিজে অসুস্থ না হলেও অন্যের সংস্পর্শ এড়াতেও মাস্ক পরুন’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে মানুষকে হাত ভালোভাবে ধোয়া নিশ্চিত করার জন্য পরামর্শ দিয়েছে। আপাতত করোনা ভাইরাসের প্রতিকার হিসেবে এই সতর্কতাগুলো মেনে চললেই হবে। নিজে সচেতন হোন এবং অপরকে সচেতন করুন।

– নিউজ ডেস্ক / খলিফা নিউজ