খন্দকার আব্দুল মালেক শহীদুল্লাহ

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি… আমি কী ভুলিতে পারি! হুম পারি, অবশ্যই পারি। নয়তো একজন ভাষা-সৈনিকের এ দূরাবস্থা হতো না। মানুষটা কাউকে দেখলেই তাঁর মুখের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকেন এরপর হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করেন। গত বছর স্ট্রোক করার পর ডান পাশ অবশ গেছে। এখন ডান হাত ও ডান পা বিকল হয়ে আছে। স্পষ্ট করে কোন কথাও বলতে পারেন না, কথাগুলো জড়িয়ে যায়। শুনলে মনে হবে আবোল তাবোল কী যেন বকছেন। অথচ ভুগছেন হার্টের রোগসহ নানান শারীরিক সমস্যায়। সারাদিন নিজের ভাঙ্গা ঘরেই শুয়ে দিন কাটে তার। এমন অসহায় অবস্থাতেই দিন কাটছে একজন বীরপুরুষ ভাষা-সৈনিকের।

বয়স প্রায় ৯০ ছুঁয়েছে, অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার বীর ভাষাসৈনিক খন্দকার আব্দুল মালেক শহীদুল্লাহ। মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় যে ভাতা তিনি পাচ্ছেন সেটা দিয়ে কোনমতে দুই বেলা খেয়েই বেঁচে আছেন। তিনি আজীবন মানবতার সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। বেলাশেষে এখন হাতরে বেড়াচ্ছে সেই মানবতা। ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন, দেশকে স্বাধীন করার জন্য মুক্তিযুদ্ধও করেছেন। এমন দেশপ্রেমিকের দিন কাটছে অর্থ-অভাবে বিনা চিকিৎসায়।

তার জীবন সঙ্গিনী সুরাইয়া মালেক স্বামীর উন্নত চিকিৎসার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়েছেন। সঞ্চয় বলতে তেমন কিছুই নেই সারা জীবন মানুষের সেবায় নিয়োজিত আব্দুল মালেকের। বাবার চিকিৎসা চালিয়ে যাবে সেই সামর্থ্য তাঁর সন্তানদেরও নেই। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী -কে.এম. খালিদ ভাষাসৈনিক খন্দকার আব্দুল মালেকের চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে তাকে আশ্বস্ত করেছেন এই বলে যে, তার বিষয়টি সরকারের নজরে আছে। অথচ এই ভাষাসৈনিকের দূরাবস্থা এখনো কাটছে না। মুক্তাগাছা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মোঃ আবুল কাশেমের ভাষ্যমতে, ভাষাসৈনিক আব্দুল মালেক ছিলেন একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধাও। জীবন ভর মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন তিনি, তাই অর্থ সম্পদ কিছুই সঞ্চয় করতে পারেননি।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মাসেও একজন ভাষা সৈনিক ধুঁকে ধুঁকে মরছেন। কতটা কণ্টকাকীর্ণ পথ পেরিয়ে বাংলা বর্ণমালা আজ বিশ্ব দরবারে সমাদৃত! স্বীকৃত! সেই বর্ণমালাকে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড় করালেন যারা, তারা নিজেরাই এখন অসহায়ত্বের ছোবলে জীবনযাপন করছেন নিজ মাথা নুইয়ে। হয়তো মারা যাওয়ার পর তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে। অনেক দুঃখও প্রকাশ করা হবে। তাতে শ্রদ্ধেয় আব্দুল মালেকের কিইবা আসে যায়? বেঁচে থাকতেইতো চিকিৎসা পাচ্ছেন না। মৃত্যুর পর সেই সম্মান দিয়ে কী করবেন? বেঁচে থাকা অবস্থায় গুনীর কদর দিতে জানি না বলেই হয়তো এই দেশে গুনী মানুষগুলো এখন আর জন্মায় না। জন্মালেও আর এই দেশে থাকতে চায় না।

– নিউজ ডেস্ক / খলিফা নিউজ