গ্রামীনফোন

দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল অপারটর গ্রামীণফোন আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে বড় একটি সঙ্কটে পড়তে যাচ্ছে। এমনটি-ই জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ইয়াসির আজমান।

তবে এই সঙ্কট সৃষ্টি হলে প্রায় ৭ কোটি সেবা গ্রহীতার ওপর কী ধরণের প্রভাব পড়বে / পড়তে পারে বা তাদের করণীয় কী হবে তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

গত সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইয়াসির আজমান বলেছেন, বিটিআরসি এর বিধিনিষেধের কারণে গত বছরের জুলাই মাস থেকেই কোম্পানিটি নতুন কোনো বিনিয়োগ করতে পারেনি। এই সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৫বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার কথা ছিল।
ফলে প্রতিষ্ঠানটি তাদের নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি বা অন্যান্য কোন কাজ করতে পারছে না। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ সিমের চাহিদা থাকলেও বিটিআরসির নিষেধাজ্ঞায় তাও সরবরাহ করতে পারছে না গ্রামীণফোন।

নিরীক্ষা রিপোর্টে বিটিআরসি গ্রামীণফোনের কাছে মোট ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা পাওনা। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতেও মামলা চলছে।

এদিকে দুই হাজার কোটি টাকা পাওনার মধ্যে বিটিআরসি-কে ৫৭৫ কোটি টাকা পরিশোধ করতে প্রস্তুত গ্রামীণফোন। বাকি টাকা পরিশোধের ক্ষেত্রে আদালতের রায় অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জিপি’র এই নতুন প্রধান নির্বাহী। তবে উচ্চ আদালতের আদেশ ছাড়া কোনভাবেই ৫৭৫ কোটি টাকা নেবে না বিটিআরসি। কিন্তু ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পুরো টাকা না দিলে গ্রামীণফোনে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

গত বছরে ২৪ নভেম্বর বিটিআরসির দাবি করা ১২হাজার ৫৮০ কোটি টাকার মধ্যে গ্রামীণফোনকে দুই হাজার কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। তিন মাসের মধ্যে গ্রামীণফোনকে এই টাকা পরিশোধ -করতে বলা হয়।

উচ্চ আদালতের এই নির্দেশনার পর বিটিআরসির পাওনা দাবির একটি অংশ পরিশোধে রাজি হয় গ্রামীণফোন। তবে ২ হাজার কোটি টাকা নয়; ১২ কিস্তিতে তারা ৫৭৫ কোটি টাকা পরিশোধের সুযোগ চায়। এই দাবি নিয়ে সম্প্রতি আপিল বিভাগে রিভিউ আবেদন করেছে দেশের শীর্ষে থাকা এই অপারেটর। বিষয়টি এখনো বিচারাধীন রয়েছে।

এরইমধ্যে গত সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বসুন্ধরায় জিপি হাউজে গ্রামীণফোনের প্রথম বাংলাদেশি সিইও হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে বিটিআরসির পাওনা ইস্যুতে কথা বলেন -ইয়াসির আজমান।

এদিকে উচ্চ আদালত নির্দেশ দিলে গ্রামীণফোন প্রস্তাব মেনে নিবে বলে জানিয়েছেন বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, ইনজাঙ্কশনটা -স্টে করার জন্য আমরা আপিল বিভাগে রিভিউ পিটিশন দিয়েছি। এর বাইরে আমি বিটিআরসি চেয়ারম্যান /  টেলিকমিউনিকেশন মন্ত্রী এবং অন্যান্য পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে যাচ্ছি যেন সমস্যাটি সমাধানে আবারো আলোচনায় বসা যায়।

তিনি বলেন, উনারা যদি আমাদের বলে পাঁচশো কোটি টাকা দেন, এটা অসম্ভব। নেওয়ার সুযোগ নাই। আমাদেরকে শুধু বাইশশো কোটি টাকা দেওয়ার সুযোগ আছে, আর সেটাও একবারে। কিস্তিতে দেওয়ার কোনো সুযোগ নাই। কোর্ট এখনো স্টে দিলো না, স্টে না দিলে আমাদের যে ক্ষমতা আছে আইনে আমরা তাই করবো।

এসময় পাওনা ইস্যুতে শীর্ষ এই অপারেটরের রাষ্ট্রপতিকে উকিল নোটিশ পাঠানো উচিত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান।

– নিউজ ডেস্ক / খলিফা নিউজ