মসজিদ

পবিত্র জুমার দিনে ফজিলতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকটি হচ্ছে, এই দিনের এমন একটি সময় আছে, মুমিন বান্দা যখন কোনো দোয়া করে; মহান রাব্বুল আলামিন তার দোয়া কবুল করেন।
রাসূল (সাঃ) বলেছেন, ‘সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিনই হচ্ছে সর্বোত্তম দিন। এই দিন হয়রত আদম (আঃ) -কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিন তাকে জান্নাতে দেয়া হয়েছে এবং এই দিনই তাকে জান্নাত থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। (মুসলিম, হাদিস: ১৮৬১)।

তার মানে হচ্ছে, দুনিয়াতে প্রথম মানুষের আগমন ঘটেছিল এই জুমার দিনেই। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূল (সাঃ) আমাদের সঙ্গে একদিন পবিত্র শুক্রবারের ফজিলত ও বৈশিষ্ট্যগুলো নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখন তিনি বলেন, ‘জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, সেই সময়টায় যদি কোনো মুমিন বান্দা নামাজ আদায়রত অবস্থায় থাকে এবং আল্লাহর কাছে কোন কিছু চায়, মহান আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই তার সে দোয়া কবুল করবেন এবং এরপর রাসূল (সাঃ) তার হাত দিয়ে ইশারা করে সময়টির সংক্ষিপ্ততাও ইঙ্গিত দেন।’ (বুখারি, হাদিস: ৬৪০০)।

উক্ত হাদিস দ্বারা বোঝাই যাচ্ছে, জুমার দিনে বিশেষ একটি মুহূর্ত আছে, যখন আল্লাহ তাঁর বান্দার সকল দোয়া কবুল করেন। কিন্তু জুমার দিনের সেই বিশেষ মুহূর্তটি কখন -তা নিয়ে অনেক মতভেদ রয়েছে। নিম্নে হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে সেই সময়গুলো তুলে ধরা হলোঃ
মসজিদের ইমাম মিম্বরে উঠার পর থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্তঃ হযরত আবু দারদা ইবনে আবু মুসা আশআরি (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন; আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন; আমি রাসূল (সাঃ) -কে বলতে শুনেছি, তিনি জুমার দিনের বিশেষ মুহূর্তের সম্পর্কে বলেছেন, ইমামের মিম্বরে বসার সময় থেকে নামাজ শেষ করা পর্যন্ত সময়টিই হচ্ছে সেই বিশেষ মুহূর্ত। (আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৯)।

আসরের শেষ সময়ঃ অর্থাৎ সূর্য ডোবার আগ মুহূর্তে। হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেছেন; ‘জুমার দিনের বারো ঘণ্টার মধ্যে এমন এক মুহূর্ত রয়েছে, তখন সেই মুহূর্তে যদি কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে, তাহলে মহান আল্লাহ তাকে তা দান করেন। এ মুহূর্তটি তোমরা আসর ওয়াক্তের শেষ সময়ে অনুসন্ধান করো। (আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৮)।

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন; রাসূল (সাঃ) বলেছেন, সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। হযরত আদম (আঃ) -কে এই দিনে সৃষ্টি করা হয়েছিল। এই দিন তাকে জান্নাতে দেয়া হয়েছে, এই দিনে তাকে জান্নাত থেকে বের করে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল, এই দিনে তার তাওবা কবুল হয়েছিল। এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেছেন এবং এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। জিন ও মানুষ ছাড়া সকল প্রাণী শুক্রবার দিনে ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কেয়ামতের ভয়ে ভীত থাকে।

এই দিন এমন এক বিশেষ সময় রয়েছে, নামাজরত অবস্থায় যদি কোনো মুসলিম বান্দা মহান আল্লাহর কাছে কোনো অভাব পূরণের জন্য দোয়া করে তখন আল্লাহ তাকে তা দান করে থাকেন। হযরত কাআব (রাঃ) বলেন, এই সময়টি প্রতি বছর একটি জুমার দিনে থাকে। আমি (হযরত আবু হুরায়রা) বললাম, না, বরং এই বিশেষ সময় প্রতি জুমার দিনে থাকে। অতঃপর বিশেষ সময় কাআব (রাঃ) (এর প্রমাণে) তাওরাত পাঠ করে বলেন, রাসূল (সাঃ) সত্যই বলেছেন।

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, অতঃপর আমি; ‘আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ) -এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি অবহিত করি। সেখানে কাআব (রাঃ) -ও উপস্থিত ছিলেন। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ) বললেন, আমি দোয়া কবুলের সেই বিশেষ সময়টি সম্পর্কে জানি। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আমাকে তা অবহিত করুন। তিনি বলেন, সেই সময় হলো জুমার দিনের সর্বশেষ সময়। আমি (আবু হুরায়রা) বললাম; জুমার দিনের সর্বশেষ সময় কখন/কেমন করে হবে?

অথচ রাসূল (সাঃ) বলেছেন যে; ‘কোনো মুসলিম বান্দা নামাজরত অবস্থায় ওই সময়টি পাবে…।’ কিন্তু আপনার (আবদুল্লাহ ইবনে সালাম) বর্ণনাকৃত সময়ে তো নামাজ আদায় করা যায় না। ‘আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ) বলেন, রাসূল (সাঃ) কি বলেননি, যে ব্যক্তি নামাজের জন্য বসে অপেক্ষা করবে সে নামাজ আদায় না করা পর্যন্ত নামাজরত বলে গণ্য হবে! আবু হুরায়রা বলেন; আমি বললাম, হ্যাঁ। ‘আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ) বলেন, তা এরূপই। (আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৬)।

মহান রাব্বুল আলামিন, সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে জুমার দিনের দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্তটি পাবার নসিব দান করুন। আমিন।

– নিউজ ডেস্ক / খলিফা নিউজ