fbpx

প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরার উপকারিতা

খবরের শিরোনাম দেখে অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন কি বললাম জড়িয়ে ধরার কথা? একটু ভাবুন তো! খুব আনন্দের সময় অথবা বিপদের সময় যখন মাকে জড়িয়ে ধরেন, তখন কতটা স্বস্তি লাগে! প্রিয় মানুষটি যখন ভালোবেসে বুকে টেনে নেয়, কতটা সস্থি আর নিরাপদ অনুভব করেন? কিংবা মনে মনে ভাবুন বন্ধুদের শক্ত সেই আলিঙ্গন! সন্তান কিংবা ছোট ভাই-বোনের আদুরে সেই গলা জড়িয়ে ধরা।

কাউকে ভালোবেসে জড়িয়ে ধরার মাঝে আছে অনেক উপকারিতা। ভালোবেসে কাউকে আলিঙ্গন করলে নিরাপত্তা অনুভূতি হয়। সেই সঙ্গে বিশ্বাস ও আস্থা বাড়ে। আলিঙ্গন করলে মানসিক শান্তি বৃদ্ধি পায়, সেই সঙ্গে কমে যায় অস্থিরতা। জেনে নিন প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরার কিছু উপকারিতা।

মন ভালো হয়ঃ আলিঙ্গন করলে (জরিয়ে ধরলে) শরীরে অক্সিটসিনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। অক্সিটসিন মনের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। যা থেকে ভালো লাগার অনুভূতি সৃষ্টি হয়। ফলে কাউকে আলিঙ্গন করলে / জরিয়ে ধরলে মন ভালো হয়ে যায় সাথে বেড়ে যায় বিশ্বাস ও আস্থা।

উচ্চ রক্তচাপ কমেঃ যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে। তারা বেশি বেশি প্রিয়জনকে আলিঙ্গন করুন। কারণ যত বেশি আলিঙ্গন করবেন, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থেকে তত মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনাও বেশি। কাউকে আলিঙ্গন করলেই মানসিক প্রশান্তি মেলে। যা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। আলিঙ্গন করলে প্রিয়জনের ত্বকের সঙ্গে স্পর্শ লেগে পেসিনিয়ান করপাসক্যালসকে কার্যকরী করে। পেসিনিয়ান করপাসক্যালস ভেগাস নার্ভকে সিগন্যাল পাঠায়। যার কারনে কমে যায় ব্লাড প্রেসার।

মনের ভয় দূর হয়ঃ প্রিয় মানুষটিকে আলিঙ্গন করলে মন থেকে সব ভয় দূর হয়ে যায়। সাইকোলজিক্যাল সাইন্স জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, আলিঙ্গন করলে মানুষের মাঝে মৃত্যুর ভয় অনেকটাই কমে যায়। সেই সঙ্গে কমে যায় দুশ্চিন্তা এবং মানসিক চাপ। এমনটি একটি জড় বস্তু যেমন টেডি বিয়ারকে জড়িয়ে ধরলেও যেকোন ভয় কমে যায় অনেকখানি।

হৃৎপিন্ডের জন্য উপকারীঃ একটি গবেষণায় জানা গিয়েছে যে, আলিঙ্গন করলে হার্টবিট রেট স্বাভাবিক হবে এবং হৃৎপিন্ড ভালো থাকবে। ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলিনার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে করা আরেকটি গবেষণায় বলা হয়ে, আলিঙ্গন করার পর গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের হার্টবিট বেড়ে গিয়েছে বহুগুন…।

মানসিক চাপ কমায়ঃ প্রিয়জনকে আলিঙ্গন করলে মানসিক চাপ কমে যায় একেবারেই। প্রচণ্ড মানসিক চাপ কিংবা কাজের চাপে থাকলে ভালোবাসার মানুষটিকে আলিঙ্গন করুন। তাহলে নিমিষেই দূর হয়ে যাবে মানসিক চাপ। সেই সঙ্গে মনে সাহস পাবেন। আলিঙ্গন করলে মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী হরমোন কর্টিসলের পরিমাণ কমে যায় সঙ্গে সঙ্গেই৷ ফলে মন হালকা লাগে এবং শরীরে শিথিলতা আসে…।

শিশুদের আলিঙ্গনঃ শিশুদের জন্য আলিঙ্গন খুবই উপকারী। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, প্রতিদিন শিশুদেরকে যত বেশি আলিঙ্গন করা হয় তাদের মধ্যে ভয়, অস্থিরতা, মানসিক চাপ তত কমে যায়। অর্থাৎ বড়দের মতই ছোটদেরকে আলিঙ্গন করলেও স্ট্রেস হরমোন কমে যায়।

বার্ধক্যে আলিঙ্গনঃ বয়সকালেও প্রয়োজন প্রিয় মানুষদের আলিঙ্গন। ওহিও স্টেট ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণা থেকে জানা যায় যে, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আলিঙ্গনের প্রয়োজনীয়তা আরও বৃদ্ধি পায়। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে হতাশা ও বিষণ্ণতা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে বৃদ্ধি পায় শারীরিক নানান সমস্যা। এই সময়ে প্রিয়জনকে আলিঙ্গন করতে পারলে মন ভালো থাকে এবং শারীরিক নানান সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

– নিউজ ডেস্ক / খলিফা নিউজ

error: Content is protected by Kholifa Network!!