করোনা ভাইরাস

করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় হইচই ফেলে দিলেন থাইল্যান্ডের একদল চিকিৎসক। ফ্লু এবং এইচআইভি চিকিৎসার ওষুধের সংমিশ্রণে নতুন একটি ওষুধ তৈরি করেছেন তারা। গুরুতরভাবে অসুস্থদের মধ্যে নতুন এই ওষুধের প্রয়োগে প্রাথমিক ভাবে ব্যাপক সাফল্য মিলেছে বলেও তারা দাবি করছেন।

এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে গুরুতর অসুস্থ রোগীরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে ব্যাংকক হাসপাতালের ওই চিকিৎসক দল জানিয়েছেন। নতুন এই ওষুধ প্রয়োগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে।

এইচআইভি চিকিৎসায় লোপিনাভির ও রিটোনাভির ওষুধ ব্যবহার করা হয়। আর ফ্লুর চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয় ওসেলটামিভির। করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় বেশি পরিমাণে ওসেলটামিভিরের সঙ্গে লোপিনাভির ও রিটোনাভির রোগীর দেহে প্রয়োগ করেছে তারা। আর এতে নাকি ব্যাপক সাড়াও মিলেছে।

এই প্রসঙ্গে রাজাভিথি হাসপাতালের ফুসফুস বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ক্রিয়াংসকা অতিপোর ওয়ানিচ বলেন, “এই ওষুধের প্রয়োগে রোগ সম্পূর্ণ সেরে যাচ্ছে, এমনটি নয়। তবে রোগীদের অবস্থার দ্রুত উন্নতি ঘটছে। আর এটা একটা বড় সাফল্য।”

রহস্যময় ভাইরাসটিতে এখন পর্যন্ত ৩৬২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রবিবার পর্যন্ত ছিল ৩০৫। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার ছাড়িয়েছে!

যে হুবেই প্রদেশ থেকে ভাইরাসটি ছড়িয়েছে শুধু সেখানেই শুধু মারা গেছে ৩৫০ জন। আক্রান্ত ১১ হাজারের বেশি।

এখন পর্যন্ত প্রায় ৩২৮ জন ‍সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতে-ই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, হৃদযন্ত্র, কিডনি বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। এটি মোড় নিতে পারে রেসপিরেটরি ফেইলিউর, নিউমোনিয়া বা কিডনি অকার্যকারিতার দিকে। পরিণতিতে হতে পারে মৃত্যু।

করোনা ভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। লক্ষণগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মতোই। আবার অনেকের ক্ষেত্রে ডায়রিয়াও দেখা দিতে পারে।

এই ভাইরাসের লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে। সঙ্গে থাকতে পারে শুকনো কাশি, সর্দি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা এবং শরীর ব্যথা। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। সাধারণ ফ্লুর মতোই হাঁচি – কাশির মাধ্যমে ছড়াতে পারে এ রোগের ভাইরাস।

-নিউজ ডেস্ক / খলিফা নিউজ