fbpx

দুদকের হাতে সব দুর্নীতিবাজদের তালিকা

দুদক

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান ও সিভিল এভিয়েশনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের তালিকা এখন দুদক এর হাতে। তাদের বিরুদ্ধে বিমান এর টিকিট বিক্রিতে, সিভিল এভিয়েশন এর উন্নয়নমূলক কাজে, ভূমি অধিগ্রহণে এবং রক্ষণাবেক্ষণ ও তহবিল ব্যবস্থাপনায় শত শত কোটি টাকার অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। যার প্রমাণও পেয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি। এসব প্রমাণসংবলিত দুর্নীতির ফাইল সম্প্রতি দুদকে পাঠানো হয়েছে।

দুর্নীতির তালিকাভুক্ত এসব কর্মকর্তার মধ্যে সিভিল এভিয়েশনের প্রধান প্রকৌশলী সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামী, কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আমিনুল হাসিব অন্যতম। এ ছাড়াও এ তালিকায় রয়েছেন কক্সবাজার বিমানবন্দরের জেনারেটর কেনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত সিভিল এভিয়েশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শহীদুল আফরোজ, নির্বাহী প্রকৌশলী মিহির চাঁদ দে, কক্সবাজার বিমানবন্দরের ম্যানেজার হাসান জহির, সহকারী প্রকৌশলী ভবেশচন্দ্র, শহীদুল ইসলাম মণ্ডল ও ঠিকাদার শাহাবুদ্দিন, বিমানের সাবেক এমডি মোসাদ্দেক, টিকিট কেলেঙ্কারির হোতা পরিচালক (বিপণন) আশরাফুল আলমসহ অনেকে।

সম্প্রতি বিমান ও সিভিল এভিয়েশনে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করার পরপরই অভিযুক্ত এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ পায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। এমন প্রেক্ষাপটে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির পাশাপাশি দুদকও তাদের দুর্নীতির অনুসন্ধানে নামে। অনুসন্ধানে সিভিল এভিয়েশনের প্রধান প্রকৌশলী সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামীসহ অন্যান্য প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়। একইভাবে বিমানের টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে বছরের পর বছর ধরে লোকসানের ব্যাপারেও চাঞ্চল্যকর তথ্য মেলে।

একপর্যায়ে দুদক সিভিল এভিয়েশনের প্রধান প্রকৌশলী সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামীর কাছে পাঠানো নোটিশে ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সিভিল এভিয়েশনে কী কী প্রকল্পের কাজ হয়েছে, তার তালিকা চাওয়া হয়। নোটিশে ওই দুই অর্থবছরে কেনাকাটা খাতে ব্যয়ের বিস্তারিত বিবরণ, একই সময় নির্মাণ ও সংস্কার খাতে ব্যয়ের বিবরণ, আইটি খাতে বরাদ্দের পরিমাণ এবং কী কী কাজ হয়েছে, সেসবের বিবরণও দিতে বলা হয়। উল্লেখ্য, এর আগেও ২০১৭ সালের ১৯ অক্টোবর ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।

গত বছর এপ্রিলে মহিবুল হক বেসামরিক পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব হিসেবে যোগ দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রণালয় থেকে সিভিল এভিয়েশন, বিমানসহ অন্যান্য সংস্থায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়। এ সময় প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীর সভাপতিত্বে একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিমান ও সিভিল এভিয়েশনে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রণালয়। অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে গঠন করা হয় পৃথক তদন্ত কমিটি। কমিটি বিমানের টিকিট কেলেঙ্কারি, কক্সবাজার বিমানবন্দরে উন্নয়ন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খুঁজে পায়। বিভিন্ন মহলের চাপ থাকার পরও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। যার ধারাবাহিকতায় প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আমিনুল হাসিবকে সাময়িক বরখাস্ত করে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এই অনিয়মে সিভিল এভিয়েশনের প্রধান প্রকৌশলী সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামী দায় এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করা হয় প্রতিবেদনে।

বিমান ও সিভিল এভিয়েশনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের ফাইল দুদকে জমা দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

– নিউজ ডেস্ক / খলিফা নিউজ

error: Content is protected by Kholifa Network!!