পাসপোর্ট

বাংলাদেশ – স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ইলেকট্রনিক্স পাসপোর্টের (ই-পাসপোর্ট) মেয়াদ, আবেদন ফরম ও ফি নির্ধারণ-সংক্রান্ত পরিপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। সূত্র থেকে জানা গেছে ইলেকট্রনিক্স পাসপোর্ট বা ই-পাসপোর্ট পেতে অতি জরুরি ফি জমা দিয়ে মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই তা হাতে পাবেন গ্রাহক। এর মেয়াদ করা হয়েছে ১০ বছর। এই ই-পাসপোর্ট -এ  সত্যায়ন পদ্ধতি থাকছে না। তবে আগের নিয়ম অনুযায়ী পুলিশ ভেরিফিকেশনের পর গ্রাহক তার পাসপোর্ট হাতে পাবে।

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, ই-পাসপোর্ট ৪৮ ও ৬৪ পৃষ্ঠার হবে। ৪৮ পৃষ্ঠার ই-পাসপোর্টে ভ্যাট ছাড়া সাধারণ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য ৪,০২৫ টাকা এবং ১০ বছরের জন্য ৫,৭৫০ টাকা।

পাঁচ বছরের জন্য জরুরি ফি ৮,৬২৫ টাকা এবং ১০ বছরের জন্য ১০,৩৫০ টাকা। পাঁচ বছরের অতি জরুরি আবেদনের ক্ষেত্রে ৬,৩২৫ টাকা এবং ১০ বছরের জন্য ৮,০৫০ টাকা ফি দিতে হবে। এদিকে ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্টের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য ভ্যাট ছাড়া সাধারণ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৬,৩২৫ টাকা এবং ১০ বছরের জন্য ৮,০৫০ টাকা। একই পৃষ্ঠার পাসপোর্টে অতি জরুরি ফি পাঁচ বছরের জন্য ১২,০৭৫ টাকা এবং ১০ বছরের জন্য ১৩,৮০০ টাকা।

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকরা সাধারণ ও জরুরি পাসপোর্ট পেলেও তারা অতি জরুরি আবেদন করতে পারবেন না। সাধারণ আবেদনকারীকে পাঁচ বছর মেয়াদের ৪৮ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট পেতে ১০০ মার্কিন ডলার এবং জরুরি পাসপোর্ট পেতে দেড়শ’ ডলার ফি দিতে হবে। একই পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট পেতে খরচ করতে হবে ১২৫ মার্কিন ডলার ও ১৭৫ মার্কিন ডলার বা সম মূল্যের মুদ্রা। ৬৪ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের জন্য সাধারণ ফি ১৫০ ডলার এবং জরুরি ফি ২০০ ডলার করা হয়েছে।

একই পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের জন্য বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিককে সাধারণ ফি বাবদ ১৭৫ ডলার এবং জরুরি পাসপোর্ট বাবদ ২২৫ মার্কিন ডলার বা সমমূল্যের মুদ্রা দিতে হবে। তবে বিদেশে অবস্থানরত শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এই ফি কমানো হয়েছে বলে জানা যায়। বিদেশে অবস্থানরত শ্রমিক বা শিক্ষার্থীদের পাঁচ বছর মেয়াদি ৪৮ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট পেতে সাধারণ আবেদনে ৩০ ডলার ও জরুরি ক্ষেত্রে ৪৫ ডলার এবং ১০ বছর মেয়াদে ৫০ ডলার ও ৭৫ ডলার ফি দিতে হবে।

৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট পেতে এ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ বছরের জন্য ১৫০ ডলার ও ২০০ ডলার এবং ১০ বছরের জন্য ১৭৫ ডলার এবং ২২৫ ডলার বা সম মূল্যের মুদ্রা। তবে সাধারণ বসবাসকারী, শ্রমিক বা শিক্ষার্থীদের এসব ফির সঙ্গে দূতাবাস প্রদত্ত সার চার্জও যুক্ত হবে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, ই-পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে কোনো কাগজপত্র সত্যায়ন করা লাগবে না। অত্যাধুনিক এই পাসপোর্টের ফরমে প্রার্থীর কোনো ছবি সংযোজনও করতে হবে না, যা অনেক ঝামেলা থেকে মুক্ত।

অপ্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারী (যার জাতীয় পরিচয়পত্র নেই), তার বাবা এবং মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর সংযুক্ত করতে হবে। ১৮ বছরের নিচের আবেদনকারীদের জন্ম নিবন্ধন সনদ জমা দেওয়া লাগলেও, চাইলে জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ দিয়েও আবেদন করা যাবে। কিন্তু ১৮ বছরের ওপরের আবেদনকারীদের জন্য অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র লাগবে।

মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ফরমের ব্যক্তিগত তথ্য অংশে শুধু বাবা, মা, অভিভাবক, নির্ভরশীলের নাম, পেশা ও জাতীয়তার তথ্য চাওয়া হতো। তবে ই-পাসপোর্টের জন্য নির্ধারণ করা আবেদন ফরমে দেখা যায়, এ ক্ষেত্রে প্রত্যেকের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও চাওয়া হয়েছে, ই-পাসপোর্ট অনেক উন্নত করা হয়েছে।

– নিউজ ডেস্ক / খলিফা নিউজ