মেসির জোড়া গোলে দুর্দান্ত বার্সেলোনা

21

চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে লিভারপুলের বিপক্ষে ৩–০ গোলের ব্যবধানে জয় পেয়েছে মেসির বার্সেলোনা। ম্যাচটিতে বার্সেলোনার হয়ে খেলে জোড়া গোল করেছেন লিওনেল মেসি। অন্য গোলটি এসেছে লুইস সুয়ারেজের পা থেকে।

একেই বুঝি বলে ‘হাইভোল্টেজ ম্যাচ’।
৮২ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে ফ্রি কিক নিলেন লিওনেল মেসি। রক্ষণদেয়ালের ওপর দিয়ে ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া গ্রহের ফুটবল–জাদুকরের শটটি বাতাসে খানিকটা নেচে উঠল। লিভারপুলের গোলরক্ষক অ্যালিসন তাঁর ডান পাশে লাফিয়ে পড়লেন বটে, কিন্তু মেসির নেওয়া শটে বলের নাচন থামাবে সাধ্য কার! ততক্ষণে উল্লাসে ফেটে পড়েছে ন্যু ক্যাম্পের গ্যালারিঠাসা দর্শকেরা। ইয়ুর্গেন ক্লপের মুখেও চওড়া হাসি! এমন গোল দেখার পর না হেসে উপায় আছে, বলুন?
ম্যাচে এটি ছিল মেসির দ্বিতীয় গোল। আর এই গোলের মধ্য দিয়ে মেসি ছুঁয়েছেন বার্সেলোনার হয়ে ৬০০ গোলের মাইলফলক। মেসির জোড়া গোলে সেমিফাইনালের প্রথম লেগের ম্যাচটি স্বাগতিকেরা জিতেছে ৩-০ গোলের ব্যবধানে।

বল দখলে দুই দলই ছিল সমানে-সমান। ইংলিশরা কোনোদিক দিয়েই ছেড়ে কথা বলেনি স্প্যানিশদের। তবে আক্রমণে তুলনামূলক বেশি ধার ছিল বার্সেলোনারই। অন্যদিকে, পাল্টা আক্রমণে লিভারপুলও ছিল ভয় ধরানো। প্রথমার্ধের শুরু থেকেই লিভারপুলকে চেপে ধরে কাতালানরা। প্রথমার্ধে গোলের সুযোগও বেশি তৈরি করেছিল স্প্যানিশ জায়ান্টরাই। প্রথমার্ধে গোলমুখে দুই দলই শট নিয়েছে ৪টি করে। তবে বার্সেলোনা দুটি শট লক্ষ্যে রাখতে পারলেও লিভারপুল পারেনি একটিও।

মেসি ছিলেন দুর্দান্ত। খেলেছেন নিচে নেমে, ওপরে উঠে। বলের জোগান দিয়েছেন। গোলমুখে নিজে শট নিয়েছেন। ১৪ মিনিটে নিজেই গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেন। পরের মিনিটেই কুতিনহোকে বল বাড়িয়ে দেন। ব্রাজিলিয়ান এই তারকাও গোলের মুখ দেখেননি। সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন সুয়ারেজ। এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের প্রথম গোলটি কখন পাবেন এই আশায়। সুয়ারেজের অপেক্ষার প্রহর শেষ হয় ২৬ মিনিটে। জর্ডি আলবার নিচু করে বাড়ানো বলে পা ছুঁইয়ে বল জালে জড়ান বার্সেলোনার উরুগুইয়ান এই স্ট্রাইকার। নিজের সাবেক ক্লাব দিয়েই অচলায়তন ভাঙ্গেন সুয়ারেজ।

দ্বিতীয়ার্ধে গোল পরিশোধে আপ্রাণ চেষ্টা চালায় অলরেডরা। প্রথম ১৫ মিনিটেই মানে-সালাহদের তিনটি শট আটকে দেন বার্সেলোনার জার্মান গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেন। লিভারপুলের একের পর আক্রমণে ব্যস্ত বার্সেলোনা তখন পরিকল্পনা পাল্টে ফেলে। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠে প্রতিপক্ষ শিবিরে ভয় ধরানোর মন্ত্র পড়েন ভালভার্দের শিষ্যরা। নিজেদের সীমানা থেকে মেসি একাই বল টেনে আনেন। সার্জি রবার্তোর কাছ থেকে বল পেয়ে শট নেন সুয়ারেজ। কিন্তু বেরসিক গোলবারে লেগে বল ফিরে এলে অরক্ষিত মেসি সেটা সহজেই জালে জড়ান। মিনিট সাতেক পর ডি বক্সের বাইর ফাবিনহোর ফাউলের শিকার হন মেসি। ফ্রি কিক নেন মেসি নিজেই। বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন এই গোলমেশিনের গোলেই ব্যবধান বাড়ায় লা লিগা চ্যাম্পিয়নরা।
চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে থমাস মুলারের পর মেসিই একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি এক মৌসুমে আলাদা তিন ইংলিশ ক্লাবের বিপক্ষে গোল করেছেন (টটেনহাম, ম্যানইউ, লিভারপুল)। ২০১৩-১৪ মৌসুমে এই কাজ করেছিলেন থমাস মুলার। তাঁর গোলগুলো ছিল ইংলিশ ক্লাব আর্সেনাল, ম্যানসিটি ও ম্যানইউর বিপক্ষে।
মেসির দ্বিতীয় গোলের পর রবার্তো ফিরমিনোর শট গোললাইন থেকে আটকে দেন রাকিটিচ, ফিরতি বলে শট নেন সালাহ। সেটাও ফিরে আসে পোস্টে লেগে। পাল্টা আক্রমণে গোলের সহজ সুযোগ পায় বার্সেলোনাও। কিন্তু ডেম্বেলের শিশুসুলভ ভুলে ব্যবধান আর বাড়ানো হয়ে ওঠে কাতালানদের।

– নিউজ ডেস্ক / খলিফা নেটওয়ার্ক।