নাফ ট্যুরিজম পার্কে বসানো হবে ৯.৫ কিলোমিটার কেবল কার

10
naf turisum park

কক্সবাজারের জালিয়া দ্বীপের নাফ ট্যুারিজম পার্কে ৯.৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের কেবল কার স্থাপন করা হবে, এতে করে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা সুন্দর ও অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।

কেবল কার স্থাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল বা বেজা এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) মধ্যে এক পরামর্শ পরিসেবা চুক্তি সই হয়েছে। এই কেবল কার নেটং পাহাড় থেকে দ্বীপটির মূল ভূখন্ডে যুক্ত হবে।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর পান্থপথে বেজা কার্যালয়ে সংস্থার মহাব্যবস্থাপক সোহেলের রহমান চৌধুরী এবং চুয়েটের ব্যুারো অব রিসার্চ টেস্টিং এন্ড কনসালটেন্সি -এর পরিচালক ড. মো. তাজুল ইসলাম নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী, চুয়েটের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান খান কবির, বেজার সদস্য হারুনুর রশিদ এবং অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।

নাফ ট্যুারিজম পার্কে কেবল কার স্থাপনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘কেবল কার নাফ ট্যুরিজম পার্ককে পর্যটকদের কাছে আরো অনেক বেশি আকর্ষণীয় করে তুলবে। তবে ট্যুারিজম পার্কটি চালু করার বিষয়ে এখন আমাদের সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।’ আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে পার্কটি পর্যটকদের জন্য খুলে দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি বেজার উদ্দেশ্য বলেন, ‘কয়েকটি কটেজ স্থাপন করে দ্রুত পার্কটি চালু করুন। মানুষ এ ধরনের সুন্দর জায়গায় সময় কাটাতে চায়। যত দ্রুত এটি চালু করবেন তত আপনাদের জন্যও ভাল হবে।’

তিনি বলেন, শিল্পায়নের পাশাপাশি অন্যান্যা খাতেও উদ্যোক্তারা যেন বিনিয়োগ করতে পারেন সে বিষয়ে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বিশ্বমানের পর্যটন সুবিধা, চিকিৎসা সেবা ও শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এ খাতে বিনিয়োগের আহবান জানান।

অনুষ্ঠানে পবন চৌধুরী বলেন, আমরা দেশের পর্যটন খাতে নতুন ভাবনা এবং নতুন মাত্রা যোগ করতে চাইছি। যেমন নাফ ট্যুরিজম পার্কের পাশাপাশি মীরেরসরাই ইকোনমিক জোনে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ১০ থেকে ১২ হাজার একর ভূমিকে কেন্দ্র করে পর্যটন বিকাশের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে নতুন ভাবনা বলে তিনি দাবি করেন।
দেশের পর্যটন শিল্প বিকাশে আগামী সপ্তাহে পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে বেজার একটি চুক্তি সই হবে বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কেবল কার স্থাপনের জন্য চুয়েট ফিজিবিলিটি স্টাডি, পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব সমীক্ষা এবং এসবের প্রেক্ষিতে একটি স্ট্রাকচারাল ডিজাইন প্রস্তুত করবে। পরবর্তীতে কেবল কার নির্মাণকালে চুয়েট সুপারভিশন ও মনিটারিংয়ের কাজে নিয়োজিত থাকবে। পুরো প্রক্রিয় সম্পন্ন করতে ৩৮ মাস সময় লাগবে।

উল্লেখ্য, সুদৃশ্য নেটং পাহাড়ের কোল ঘেষে ২৯০ একরের জালিয়ার দ্বীপটিকে পর্যটন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে উন্নীত করতে বেজা বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ঝুলন্ত ব্রীজ, ৫ তারকা হোটেল, রিভার-ক্রুজ, সেন্টমার্টিনে ভ্রমণের বিশেষ ব্যবস্থা, ভাসমান জেটি, শিশু পার্ক, ইকো-কটেজ,ভাসমান রেস্টুরেন্টসহ নানাবিধ বিনোদনের সুবিধা। ইতোমধ্যেই কয়েকটি বিদেশী প্রতিষ্ঠান এসব খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

– নিউজ ডেস্ক / খলিফা নেটওয়ার্ক