যুক্তরাজ্যে একরাতে হামলা ও ভাঙচুর পাঁচ মসজিদে

8
masjid hamla

যুক্তরাজ্যের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডে একরাতে পাঁচটি মসজিদে হাতুড়ি দিয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। ২১/০৩/২০১৯ (বৃহস্পতিবার) ভোরে পাঁচটি মসজিদের জানালা ও দরজা ভাঙচুর চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। মসজিদে এই হামলার পর বার্মিংহাম -এর মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং শুক্রবারের জুমআর নামাজের সময় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

গত বৃহস্পতিবার দৈনিক ডেইলি মেইলের একটি প্রতিবেদনে হামলার তথ্য প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাতে উইটনের ইসলামিক সেন্টারের মধ্যে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এই হামলায় মসজিদের সাতটি জানালা ও দুটি দরজায় ভাঙচুর চালানো হয়। উক্ত হামলার বিষয়ে মসজিদের ইমাম জানান, রাত আনুমানিক ২ টার দিকে মসজিদে এই হামলা করা হয়।

দেশটির উইটন রোডের ব্রোডওয়ে, স্লেড রোডের কাছেও একটি মসজিদে হামলা হয়েছে আনুমানিক রাত ২.৩০ -এর দিকে। এরপর রাত ৩.১৫ -এর দিকে আর্ডিংটনের আরও একটি মসজিদে হামলার খবর আসে পুলিশের কাছে। এছাড়াও প্রায় একই সময়ে উইটন রোডের অ্যাস্টন ও পেরি বারের ব্রোডওয়ের মসজিদেও ভাঙচুর করা হয়েছে। পুলিশের ফরেনসিক কর্মকর্তারা এসব হামলার ঘটনার আলামত সংগ্রহ এবং সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করছেন।

ব্রোমফর্ড অ্যান্ড হজ হিল ওয়ার্ডের লেবার পার্টির কাউন্সিলর মজিদ মাহমুদ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদের ছবি অনলাইনে পোস্ট করেন ও এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে গভীর রাতে উইটন রোড ইসলামিক সেন্টার আক্রমণ হয়েছে। এই সেন্টারের জানালা হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। আমি গত সপ্তাহে বলেছি যে, ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলার পর সকল মুসলিমরা আতঙ্কিত। তাই আমাদের সহায়তা দরকার’।

উইটন ইসলামিক সেন্টারের হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ ৬৬ বছর বয়সী ইমাম শারাফাত আলী বলেন, ‘এটা অবশ্যই অত্যন্ত ভয়াবহ হামলা। এখানকার মুসলিম সম্প্রদায় এখন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। আমরা এখানে প্রায় ৩০ বছর ধরে বসবাস করছি। প্রত্যেকদিন সকালে কম করে হলেও ৪০ জন মুসল্লি এখানে নামাজ আদায় করেন। শুক্রবার জুমআর নামাজ তাই শুক্রবারের দিন এই সংখ্যা ২০০ থেকে ৩০০ ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না, কে এসব ঘটাচ্ছে, এবং কেন এসব ঘটছে। আমাদের আরো নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি’।

ওয়েস্ট মিডল্যান্ড পুলিশ জানায়, রাতে হামলা হতে পারে এই ধারণা করে সবাইকে আগেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন তারা। তবে গভীর রাতে হামলা চালিয়ে মসজিদ ভাঙচুরের কারণ কি তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। রাতে হামলার খবর পেয়ে সাথে সাথে পুলিশ ওই এলাকায় পৌঁছায় এবং টহল শুরু করে। মসজিদে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার তদন্ত কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছে ওয়েস্ট মিডল্যান্ড কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।

– নিউজ ডেস্ক / খলিফা নেটওয়ার্ক।