ফেসবুকের মানবিক আবেদনে সাড়া দিলেন মাশরাফি

11
mashrafi

মাশরাফি বিন মর্তুজা একজন জনপ্রিয় ক্রিকেটার তার পাশাপাশি নিজ ব্যক্তি জিবনেও তার কদর কম নয়। নিজের ভালবাসা দিয়েই তিনি ইতিমধ্যেই সবাইকে বুঝিয়ে দিয়েছেন তার মনে আছে অন্য সবার জন্য ব্যাকুলতা, সমাজের প্রতি আছে তার দায়বদ্ধতা।

আর তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক-এ প্রকাশিত অসুস্থ আব্দুর রশিদকে পঞ্চাশ (৫০,০০০/-) হাজার টাকা জোগাড় করে দেন তিনি। দেশের না থাকলেও অসহায় এই মানুষটির সহায়তার জন্য এগিয়ে আসেন নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

জানা গেছে, লোহাগড়া উপজেলার ডহরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোফাজ্জেল হোসেন মোল্যার ছেলে আব্দুর রশিদের দুটো কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে তাকে ঢাকা পিজি হাসপাতালের চতুর্থ তলার সি-ব্ল এর ২৭ নং বেডে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন সর্বমোট ৮ / ১০ লক্ষ টাকার প্রয়োজন।

এরপর গত ১১-ই মার্চ নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এফ এম রোমান রায়হান তার ফেসবুক ওয়ালে আব্দুর রশিদের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যে চেয়ে সংসদ সদস্যদের বরাবর একটি আবেদন করেন।

সেখানে তিনি লেখেন, লোহাগড়া উপজেলা ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এশারতের বড় ভাই আব্দুর রশিদের দুইটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। তার চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন যা তার হতদরিদ্র পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারলে তাকে বাঁচানো সম্ভব উল্লেখ করা হয়।

তার এই পোষ্ট টি নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও ক্রিকেট তারকা মাশরাফি বিন মর্তুজার চোখ এড়ায়নি। তখন সে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করে ৫০,০০০ হাজার টাকার ব্যবস্থা করে দেন। পাশাপাশি আব্দুর রশিদের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন মাশরাফি বিন মর্তুজা।

আব্দুর রশিদকে সার্বিক সহযোগিতা করার এই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই মাশরাফি বিন মর্তুজাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

সেখানকার জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নিলয় রায় বাঁধান তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এফ এম রোমান রায়হানের পোষ্টটি প্রিয়নেতা মাশরাফি ভাই দেখেছেন এবং আব্দুর রশিদের চিকিৎসার জন্য পঞ্চাশ (৫০,০০০/-) হাজার টাকা দেবেন জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, হাসপাতালে যেন আব্দুর রশিদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত হয় এবং এর জন্য যা যা করণীয় তিনি সকল সাহায্য করবেন বলে জানিয়েছেন।’

ছাত্রলীগ নেতা এশারত বলেন, আমার বড় ভাই-কি চিকিৎসার অভাবে মরে যাবে! বড় ভাই আব্দুর রশিদের চিকিৎসার জন্য পিতার যায়গা-জমি যা ছিল প্রায় সব কিছুই বিক্রি করে চিকিৎসা চালানো হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন সর্বমোট ৮ / ১০ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। কিন্তু তার চিকিৎসা করানো মত অর্থ এবং সামর্থ্য আমাদের নেই।’

তিনি আরও জানান, মাননীয় এমপি সাহেব আমার ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার দিবেন। এমপি সাহেবের মত সমাজের অন্য সকল বিত্তবানদের তার ভাইয়ের চিকিৎসা জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপ-কমিটি সদস্য ও নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সৌমেন চন্দ্র বসু বলেন, আব্দুর রশিদকে চিকিৎসার জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা প্রদানের জন্য তার স্বজনদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাদের হাতে টাকা পৌঁছে দেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, মাশরাফি এখন দেশে না থাকলেও তার নির্বাচনী এলাকার প্রতি তিনি বিশেষ নজর রাখছেন। দেশের বাইরে অবস্থান করেও তিনি তার এলাকার বিভিন্ন সমস্যার সমাধার করছেন।

– নিউজ ডেস্ক / খলিফা নেটওয়ার্ক।